Syndicate content

March 2018

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে কি সুন্দরবন এলাকায় মাছের প্রাপ্যতা কমবে?

Susmita Dasgupta's picture

  
মাতৃমৃত্যু বা শিশু মৃত্যু কমানোর মতো বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বহু অর্জন থাকা সত্ত্বেও  দেশের অসংখ্য মানুষ অপুষ্টির শিকার। দেশের প্রায় ৩৩-৩৬ শতাংশ শিশু এবং ১৯ শতাংশ মহিলা অপুষ্টিতে ভুগছে।  অপুষ্টির হার স্বভাবতই দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত  পরিবারগুলোতে বেশি ।  ওয়ার্ল্ড ফিশ এবং বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে অপুষ্টির সমাধান  রয়েছে বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য "মাছে  ভাতে"। নানা ধরণের ছোট মাছ শরীরে ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ডি, এ, বি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন, জিঙ্ক, আয়রন এর ঘাটতি মেটায়। তাই অপুষ্টি এড়াতে নিম্নবিত্ত পরিবারের খাবারের তালিকায় নানা  রকমের টাটকা মাছ - বিশেষত ছোট মাছের পরিমান বাড়াতে হবে। 

পরিবেশ উষ্ণায়নের সাথে সাথে কিন্তু মাছের যোগান পাল্টাবে । 
পরিবেশ উষ্ণায়নের সাথে সাথে পৃথিবীতে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ছে - জানিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক প্যানেল (আই,পি, সি, সি). গত কয়েক দশক ধরেই প্রতি বছর অগ্রহায়ণ থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলবর্তী  এলাকায়  নদী  নালায় নোনা পানির সমস্যা দেখা যাচ্ছে।  বিশ্বব্যাংক এবং ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং বাংলাদেশে তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে (River Salinity and Climate Change: Evidence from Coastal Bangladesh) জানিয়েছে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ইছামতি, বলেশ্বর, শিবসা, পশুর, আধারমানিক সহ বিভিন্ন নদী এবং সংলগ্ন খাল বিলে  নোনা  পানির সমস্যা শুকনো মৌসুমে আরো বাড়বে| ফলে, দক্ষিণ  পশ্চিম উপকূলবর্তী   অনেক উপজেলায় মিঠা  পানির মাছের প্রাকৃতিক আবাস কমে যাবে।  স্বভাবতই এর ফলে  মিঠা পানির মাছের যোগান কমবে।